ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীরা গাজা উপত্যকায় স্থায়ীভাবে সেনা মোতায়েন এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন। সোমবার নেসেটে (পার্লামেন্ট) অনুষ্ঠিত ‘গাজা, দ্য ডে আফটার’ শীর্ষক এক সম্মেলনে কট্টর ডানপন্থী নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসরায়েলের বিচারমন্ত্রী ইয়াভি লেভিন বলেন, “গাজা আমাদের দেশের অংশ। পুরো ভূখণ্ডে আমাদের উপস্থিতি অব্যাহত রাখা জরুরি।” একই সঙ্গে কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা সিমচা রথম্যান জানান, গাজার ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব রক্ষা ইসরায়েলের জন্য অপরিহার্য। সম্মেলনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জোরপূর্বক বিতাড়ন এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এমন অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি বিরোধ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, গত বছর ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখনো পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানোকে বাধাগ্রস্ত করছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর জোট সরকারের কট্টরপন্থী অংশীদাররা।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি মন্ত্রী ইতামার বেন গিভি এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ হুমকি দিয়েছেন, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার হলে তারা সরকার সমর্থন প্রত্যাহার করবেন। এদিকে, গাজায় শান্তি বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা এখনো কাটছে না।


