মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার ভৈঁসদেহি ব্লকের ধাবা গ্রামে একটি স্কুল ভেঙে দেওয়াকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্পূর্ণ যাচাই না করেই প্রশাসন বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলে এই স্কুলটি, ফলে গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধাবা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল নঈম নিজের জমিতে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ে একটি ছোট বেসরকারি স্কুল গড়ে তুলছিলেন। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে নির্মাণ কাজ চলছিল। গ্রামে প্রায় ২ হাজার মানুষের বাস, কিন্তু সেখানে মুসলিম পরিবার রয়েছে মাত্র তিনটি। গ্রামবাসীদের দাবি, এই স্কুল তৈরিতে শুরু থেকেই তাদের সম্মতি ছিল। শিশুদের পড়াশোনার সুবিধার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু হঠাৎই প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছায়, সেখানে নাকি একটি মাদ্রাসা তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ, সেই খবরের সত্যতা যাচাই না করেই স্কুলটিতে বুলডোজার চালানো হয়। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন।
ঘটনার পর পঞ্চায়েতের পাঠানো একটি নোটিশ প্রকাশ্যে আসে। তা সামনে আসতেই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১২ জানুয়ারি তড়িঘড়ি আবদুল নঈমকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেয় পঞ্চায়েত। পরে গ্রামের সরপঞ্চও জানান, গ্রামে কোথাও মাদ্রাসা নির্মাণের কোনও তথ্য তার কাছে ছিল না।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশে হাজার হাজার সরকারি স্কুলে এখনও পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। অনেক স্কুলের নিজস্ব ভবন বা শৌচাগার নেই। সেই অবস্থায় একটি গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্কুল তৈরি করতে গিয়ে এমন ঘটনার নিন্দা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


