ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে সংশ্লিষ্ট দেশের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে ইরানে পণ্য রফতানি নিয়ে বড় ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারত। এর ফলেই গুজরাতের কান্দালা ও মুন্দ্রা বন্দরে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার পণ্য আটকে পড়ে রয়েছে। এই সমস্ত পণ্য সমুদ্রপথে ইরানে পাঠানোর কথা ছিল বলে জানা গিয়েছে। সাধারণত গুজরাত থেকে পণ্যবাহী জাহাজ আরব সাগর পেরিয়ে ইরানের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই পণ্য বন্দরে আনা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে শেষ মুহূর্তে রফতানি স্থগিত রাখা হয়। ফলে বিপুল অঙ্কের পণ্য এখনো বন্দরের গুদামেই পড়ে রয়েছে।ভারত থেকে ইরানে মূলত বাসমতি চাল, চা, ওষুধ ও বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য রফতানি হয়। বাসমতি চালের ক্ষেত্রে ইরান ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। প্রতি বছর প্রায় ১২ লক্ষ টন বাসমতি চাল ইরান কেনে, যার বাজারমূল্য ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এখন সেই রফতানি বন্ধ থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বাসমতি চালের দাম কমতে শুরু করেছে। চাল রফতানিকারক সংগঠনের দাবি, রফতানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।এদিকে ইরানে চলমান অস্থিরতার প্রভাব শুধু বাণিজ্যেই নয়, জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। অশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে ভারতের উপরও পড়তে পারে। এছাড়া ইরানের চাবাহার বন্দরের দায়িত্ব ভারতের হাতে রয়েছে। কৌশলগত ও বাণিজ্যিক কারণে এই বন্দরের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু বর্তমান অস্থিরতায় সেই নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। প্রথমে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ দিয়ে শুরু হলেও পরে তা সরকারের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনে পরিণত হয়। বিক্ষোভ দমনে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানা যায়।
Popular Categories


