ঝাড়খণ্ডের পর এবার বিহারে। আবার সেই একই চিত্র—বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক, আবার সেই একই অপবাদ—‘বাংলাদেশি’। ফের একবার প্রমাণ হল, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিচয়টাই আজ অপরাধ হয়ে উঠছে।
বিহারের বেলডাঙায় যে ঘটনা ঘটল, তা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা পরিকল্পিত রাজনীতির ফল। কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যাওয়া শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা, মারধর—এই ছবি গত কয়েক বছরে একাধিকবার সামনে এসেছে। কিন্তু প্রতিবারই প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
প্রশ্নটা খুব সোজা—
যে শ্রমিক ভোটার কার্ড, আধার, রেশন কার্ড দেখিয়েও নিরাপদ নয়, তার দোষটা কোথায়?
নাকি দোষ একটাই—সে বাঙালি, আর তার ভাষা বিজেপির রাজনীতিতে সন্দেহজনক?
বিজেপি শাসনের মূল সমস্যা এখানেই। উন্নয়নের ব্যর্থতা ঢাকতে তারা শত্রু খোঁজে। কখনও মুসলমান, কখনও দলিত, কখনও পরিযায়ী শ্রমিক। আজ ‘বাংলাদেশি’ শব্দটা আর নাগরিকত্বের প্রশ্ন নয়—এটা ঘৃণার কোড।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়, এই ঘৃণাকে রাষ্ট্রযন্ত্র নীরবে বৈধতা দিচ্ছে। পুলিশের সামনে মারধর হচ্ছে, অথচ দোষীদের বিরুদ্ধে তৎপরতা নেই। বরং আক্রান্ত শ্রমিকই হয়ে উঠছে ‘সন্দেহভাজন’।
এই দেশ কি তবে এমনই হবে— যেখানে কাজ করতে গেলে ভাষার পরিচয় দিতে হবে? যেখানে বাঙালি মানেই বিদেশি? যেখানে শ্রমিক মানেই সন্দেহ?
বিজেপির ‘এক দেশ এক ভাষা এক ভাবনা’ রাজনীতির শেষ পরিণতি এটাই। মানুষের পেটের দায়কে রাজনীতির অস্ত্র বানানো। আর তার বলি হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বলরা।
আজ বেলডাঙা, কাল অন্য কোথাও।
আজ বাঙালি শ্রমিক, কাল অন্য কেউ।
এই ঘৃণার রাজনীতি থামাতে না পারলে, কাল কাউকেই আর ‘নিজের দেশের মানুষ’ বলে চিনে নেওয়া যাবে না।


