ঘৃণাভাষণ নিয়ে একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে তাঁর নাম উঠে আসার পর ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।শনিবার হরিদ্বারের দেব সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি ধর্মান্তর, ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ ও দাঙ্গা প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে সরকারি জমিতে বেআইনি দখল সরিয়ে প্রায় ১০ হাজার একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, সমাজে বিভাজন তৈরি করার মানসিকতার বিরুদ্ধেই প্রশাসন কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে ধামি তাঁর সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। মাদ্রাসা বোর্ড ভেঙে দেওয়া, পাঠ্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং প্রায় ২৫০টি তথাকথিত অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ মাথাচাড়া না দেয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা জ্ঞান আর মূল্যবোধের কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। এমন প্রতিষ্ঠান নয়, যেখানে শিশুদের ভুল পথে চালিত করা হয়।”
এদিন তিনি ‘অপারেশন কালনেমি’ নামের একটি অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সনাতন সংস্কৃতির ক্ষতি করছে—এমন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই বিরোধী দল এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার পরিকল্পিত ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিশানা করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইন্ডিয়া হেট ল্যাব প্রকাশিত এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত বছরে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘৃণাভাষণ দিয়েছেন পুষ্কর সিং ধামি। সেই রিপোর্টে তাঁর ৭১টি বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। এর আগেই রাজ্য সরকার ধর্মান্তর বিরোধী আইনে আরও কড়া সংশোধনী এনেছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


