বিহারের সামস্তিপুর জেলায় চুরির সন্দেহে মহম্মদ দাউদ নামক এক মুসলিম যুবককে গণপিটুনির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কেল্যানপুর থানার আওতাধীন ফুলহারা গ্রামে গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। তিনি পাশের দারভাঙ্গা জেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাউদ একটি চারচাকা গাড়িতে করে গ্রামে এসেছিলেন। তাকে দেখে সন্দেহ হয় কয়েকজনের। অভিযোগ, কোনও রকম নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়াই গ্রামবাসীরা তাকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। তার সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা ভয় পেয়ে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। দাউদের উপর চলে বেধড়ক মার, যার ফলে তিনি গুরুতর জখম হন।পরে গ্রামবাসীরাই পুলিশে খবর দেয়। তবে দাউদের কাছ থেকে কেবল একটি মোবাইল ফোন ও গাড়ির চাবি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। কোনও চুরি যাওয়া সামগ্রীর মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আহত যুবকের চিকিৎসা চলছে।এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা। তাদের বক্তব্য, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বেঁধে মারধর করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে বলেও তাদের অভিযোগ। বিশেষ করে মুসলিমদের বারবার লক্ষ্য করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।সামস্তিপুরের এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নওয়াদা জেলায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনার। সেখানে নালন্দার বাসিন্দা আতর হুসেন নামক ৩৫ বছরের এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়। মৃত্যুর আগে আতর অভিযোগ করেছিলেন, হামলাকারীরা প্রথমে তার ধর্ম জানতে চায় এবং মুসলিম পরিচয়ের কারণেই নির্যাতন চালায়। এই সব ঘটনার পর মুসলিম সংগঠন ও নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
Popular Categories


