উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশের কাছে পৌড়ি জেলার কুনাউন গ্রামে এক মৌলানাকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বিহারের বাসিন্দা ওই মৌলানা স্থানীয় মুসলিম শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের হেনস্তা ও হুমকির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মৌলানা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের কয়েকটি মুসলিম পরিবারের শিশুদের খুব সাধারণভাবে কোরআন পড়া শেখাচ্ছিলেন। কোনও মাদ্রাসা বা বড় প্রতিষ্ঠান ছিল না। গ্রামের একটি ছোট দোকানের ঘরের মধ্যেই এই কোরান পাঠ চলত।
কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু শক্তি সংগঠন ও বজরং দলের কয়েকজন কর্মী এই শিক্ষাদানে আপত্তি তোলে। তাদের অভিযোগ, এটি বেআইনি ভাবে চলছে। মৌলানার পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় বলে জানা গিয়েছে। সংগঠনের দাবি, তার আধার কার্ডে দেওয়া নাম ও ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু শক্তি সংগঠনের নেতা রঘুবীরেন্দ্র ভাটনাগর বলেন, মৌলানার পরিচয় স্পষ্ট না হলে এই ধরনের কাজ মেনে নেওয়া যায় না। বজরং দলের নরেশ উনিয়ালের দাবি, এতে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকতে পারে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মৌলানা জানান, তিনি গত ১৫ বছর ধরে উত্তরাখণ্ডে থাকছেন। তার কথায়, “আমি কোনও মাদ্রাসা চালাই না। শুধু পাশের বাড়ির শিশুদের কোরআন পড়া শেখাই। কেউ শান্তভাবে কথা বললে সব কাগজ দেখাতাম।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদল লোক এসে তাকে ‘পাকিস্তানি’ বলে গালিগালাজ করে ও ভয় দেখায়।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বচসা ও ধস্তাধস্তির ছবি দেখা যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লক্ষ্মণঝুলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।


