দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পশ্চিমবঙ্গ পেল দেশের প্রথম হাই স্পিড বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেন। গত ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মালদা টাউন স্টেশন থেকে হাওড়া–কামাখ্যা রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পরই ট্রেনের খাবারের মেনু ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। যাত্রীদের অভিযোগ, বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারই রাখা হয়েছে। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় আমিষ খাবার বেছে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। ফলে যারা মাছ, মাংস বা ডিম খেতে অভ্যস্ত, তাদের মনোক্ষুন্ন হচ্ছে।
এর আগে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বিশেষ খাবার দিয়েই এই ট্রেনের মেনু সাজানো হয়েছে। হাওড়া থেকে কামাখ্যা যাওয়ার পথে যাত্রীদের জন্য রাখা হয়েছে বাসন্তী পোলাও, ডাল, আলু ভাজা, ধোকার ডালনা, লাবড়া, সন্দেশ ও রসগোল্লার মতো পরিচিত বাঙালি খাবার। অন্যদিকে, কামাখ্যা থেকে হাওড়া ফেরার পথে পরিবেশন করা হবে অসমের জনপ্রিয় খাবার, যেমন জোহা ভাত, বিভিন্ন ডাল, সব্জি ভাজা এবং নারকেল বরফি। চা ও কফির ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলা ও অসমের সঙ্গে যুক্ত এই ট্রেনে বাঙালিদের প্রিয় কোনও আমিষ পদ কেন রাখা হয়নি। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত জানান, খাবারের মেনু ঠিক করার দায়িত্ব আইআরসিটিসির। আইআরসিটিসির এক আধিকারিক বলেন, স্থানীয় খাবারকে গুরুত্ব দিয়েই মেনু তৈরি করা হয়েছে।
অপর দিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই নিরামিষ মেনু নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সব মিলিয়ে, নতুন ট্রেনের যাত্রা শুরু হলেও খাবারের তালিকা নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি।


