উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলিতে আয়োজিত একটি হিন্দুত্ববাদী সমাবেশে প্রকাশ্যে ঘৃণাভাষণ ও সহিংসতার উসকানিমূলক মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২১ জানুয়ারি ‘বিরাট হিন্দু কনফারেন্স’ নামে ওই সভায় একাধিক বক্তা মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখেন বলে অভিযোগ।
সমাবেশে উপস্থিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ঋদ্ধিমা শর্মা ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ তুলে সরাসরি প্রতিশোধের ডাক দেন বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, “ওরা যদি দু’জনকে মারে, তাহলে শান্তির জন্য ওদের একশো জন মারতে হবে”—এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম জনসংখ্যা কমে গেলে কোনও সমস্যা নেই বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন, যা সহিংসতাকে কার্যত স্বাভাবিক করার চেষ্টা বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
অন্য বক্তা খুশবু পাণ্ডে তাঁর বক্তব্যে ‘গোবি চাষ’-এর উল্লেখ করেন। এই শব্দবন্ধটি ১৯৮৯ সালের ভাগলপুর দাঙ্গার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে বহু মুসলিমকে হত্যা করে জমিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল—এই প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্য রাখাকে গণহত্যাকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা বলেই দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সভায় আরও কয়েকজন বক্তা খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে জোর করে ধর্মান্তরণের অভিযোগ তোলেন এবং হিন্দু নারীদের রক্ষার নামে হুমকির সুরে বক্তব্য রাখেন।
এই ঘটনার পর প্রাক্তন সাংবাদিক প্রশান্ত কানৌজিয়া রায়বরেলির পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই বক্তব্যগুলি সরাসরি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসা ও গণহত্যার ডাক এবং সংবিধানবিরোধী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে ঘৃণাভাষণ ও সাম্প্রদায়িক উসকানি রুখতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।


