বিজেপি শাসিত রাজ্য ওড়িশার দেখানা জেলার পারজও থানা এলাকায় এক খ্রিস্টান যাজকের উপর ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, ধর্মান্তরের ভুয়ো অভিযোগ তুলে একদল স্থানীয় মানুষ গির্জার প্রার্থনা সভা থেকে ওই যাজককে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং বলপূর্বক গোবর খাওয়ায়। এই ঘটনা ঘটে গত জানুয়ারি মাসে বলে জানা যায়।নিগৃহীত যাজকের নাম বিপিনবিহারী নায়েক। তিনি একটি ছোট গির্জায় প্রার্থনা পরিচালনা করছিলেন। সেই সময় ১৫ থেকে ২০ জন লোক তাকে বাইরে ডাকে। যাজক জানান, প্রার্থনা শেষ হলে তিনি কথা বলবেন। কিন্তু অভিযোগ, তার কথা না শুনে ওই দলটি গির্জার ভেতরে ঢুকে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।যাজকের স্ত্রী বন্দনা নায়েক জানান, তার স্বামীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার মুখে জোর করে সিঁদুর মাখানো হয় এবং গলায় চালের মালা পরিয়ে গোটা গ্রামে ঘোরানো হয়। এরপর একটি মন্দিরে বেঁধে তাকে জোর করে গোবর খাওয়ানো হয় এবং “জয় শ্রীরাম” বলতে বাধ্য করা হয়।ঘটনার পর বন্দনা ও আরও কয়েকজন স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে সাহায্য চান। কিন্তু অভিযোগ, প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অনেক অনুরোধের পর পুলিশ মামলা দায়ের করে। পরে যাজককে উদ্ধার করে থানায় আনা হলেও, সেখানে তার চিকিৎসা করা হয়নি বলে অভিযোগ।এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও প্রতিবাদে সরব হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। ওড়িশা কংগ্রেস ও বিজেডি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। কংগ্রেস নেতা সৈয়দ নাসির হুসেন বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর এমন অমানবিক নির্যাতন দেশের গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও ঘটনার নিন্দা করে বলেন, সংবিধানে দেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
Popular Categories


