অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে গভীর রাতে কোনো “লেট নাইট পার্টি” হয় না, বরং এই সময়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন করা হয়। তিনি জানান, শনিবার অসম থেকে ১৫ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠানো হয়েছে।
হিমন্তের দাবি, এসব অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, “অসমে যা হয় তা হল লেট নইটে বিতাড়ন। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সহজেই ১৫ জন অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে।” তবে মুখ্যমন্ত্রী কোন জেলার থেকে এই ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তা উল্লেখ করেননি।
এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কার্যক্রমে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশ্ন উঠেছে, যাদের বলপূর্বক বিতাড়ন করা হচ্ছে তারা কি সত্যিই অনুপ্রবেশকারী, তা যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না।
পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে অসমে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের জমি ও বসতি নিয়ে সরকারের পদক্ষেপও সমালোচিত হয়েছে। হিমন্ত সরকারের বিভিন্ন অভিযানে বছরের পর বছর ধরে স্থায়ী বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা ব্যবহার করে আরও মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজ্যের নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত সমালোচনার মধ্যে এই ঘটনা আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিক সমাজ বলছে, নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়া কাউকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে বিতাড়ন করা মানবিক নয়।


