সোনামুখীতে সিপিএমের সাম্প্রতিক জনসমাবেশে ভিড়ের চেহারা নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে। দীর্ঘদিন পরে রাজ্যের রাজনীতিতে লাল পতাকার এমন দৃশ্য দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই জনসমাগম কি আদৌ বিধানসভায় সিপিএমের খাতা খোলার বাস্তব সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারবে?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শূন্যে নেমে যাওয়ার পর সিপিএম ও বামফ্রন্ট কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির বাইরে চলে গিয়েছিল। সংগঠন থাকলেও ভোটব্যাঙ্কে তার প্রতিফলন ঘটেনি। সেই প্রেক্ষাপটে সোনামুখীর সভা দলকে নতুন করে আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে ঠিকই, কিন্তু নির্বাচন রাজনীতির নিরিখে এটি এখনও প্রাথমিক ধাপ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় সমাবেশ মানেই ভোটে সাফল্য—এই সমীকরণ বর্তমান সময়ে আর স্বয়ংক্রিয় নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত সংগঠন ও শাসক সুবিধা, অন্যদিকে বিজেপির স্থায়ী ভোটব্যাঙ্ক—এই দ্বিমুখী মেরুকরণের মধ্যে সিপিএমের জন্য জায়গা তৈরি করা কঠিন কাজ। বিশেষত গ্রামবাংলায় যেখানে তৃণমূলের প্রভাব এখনও গভীর।
তবে সিপিএমের পক্ষে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভাষা-পরিচয় সংক্রান্ত প্রশ্নে যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, তার একটি অংশ সিপিএমের রাজনৈতিক ভাষ্যের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। তরুণ ও শিক্ষিত অংশের মধ্যে সীমিত হলেও সেই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
তবু বিধানসভায় খাতা খোলার জন্য কেবল আবেগ বা স্মৃতিনির্ভর রাজনীতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বুথস্তরে সংগঠন পুনর্গঠন, বিশ্বাসযোগ্য মুখ, ধারাবাহিক গণসংযোগ এবং সর্বোপরি ভোটারদের মনে এই আস্থা ফেরানো যে সিপিএম আবার কার্যকর বিরোধী শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
সোনামুখীর সভা সেই পথে একটি ইঙ্গিতমাত্র—চূড়ান্ত উত্তর দেবে ব্যালট বাক্সই। আপাতত বলা যায়, লাল ঝড়ের আভাস মিললেও বিধানসভায় লাল রং ফেরাতে সিপিএমকে এখনও দীর্ঘ পথ হাঁটতে হবে।


