জেফরি এপস্টাইনকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসা নতুন ই-মেল নথি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবারও বিতর্ক উসকে দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে সম্প্রতি হাজার হাজার নথি প্রকাশ করা হয়েছে। সেইসব কাগজপত্রে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। এই তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কিছু শীর্ষ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর উল্লেখ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা এবং প্রাক্তন কূটনীতিক হরদীপ পুরীর এবং বিতর্কিত আমেরিকান ব্যবসায়ী জেফ্রি এপস্টাইনের মধ্যে হওয়া ইমেল বিনিময় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
এপস্টাইন ছিলেন আমেরিকার এক কুখ্যাত ধনকুবের, যিনি নারী পাচার ও নাবালিকাদের যৌন নির্যাতনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই নানা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রকাশিত ই-মেলের মধ্যে এমন কিছু বার্তা রয়েছে, যেখানে ভারত, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমঝোতার প্রসঙ্গ এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, ওই বার্তাগুলি থেকে বোঝা যায় যে আন্তর্জাতিক স্তরে কিছু সিদ্ধান্তে বড় ব্যবসায়িক স্বার্থ কাজ করেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশ এবং বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২০১৫ সালের পর থেকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হয়। সেই সময়ই অনিল আম্বানির রিলায়েন্স ডিফেন্স সংস্থা গড়ে ওঠে এবং পরে রাফাল যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত চুক্তিতে তাদের ভূমিকা সামনে আসে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে সরিয়ে বেসরকারি গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একাংশের দাবি, বিদেশি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি ও কূটনৈতিক সফরের পেছনে কর্পোরেট স্বার্থ প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হওয়ার সময়কাল এবং প্রতিরক্ষা কেনাকাটার সিদ্ধান্ত একই সময়ে হওয়ায় সন্দেহ বাড়ছে।
সরকার অবশ্য এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সব সিদ্ধান্তই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকাশিত নথি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক চলছে। বিরোধীরা স্বচ্ছ তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি তুলেছে। এপস্টাইন সংক্রান্ত ফাইল সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বড় ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

