পার্ক স্ট্রিটের একটি জনপ্রিয় পানশালাকে ঘিরে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদ এবং মতভেদের মধ্যেই অবশেষে চার দিন পর জামিন পেলেন ওই পানশালার এক বেয়ারা। ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার রাতে। অভিযোগ ওঠে, পার্ক স্ট্রিট এলাকার একটি পানশালায় ভুলবশত গোমাংস পরিবেশন করা হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে পুলিশ শেখ নাসির উদ্দিন নামে ওই বেয়ারাকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে তোলা হলে তখনই তিনি মুক্তি পাননি। আদালতের নির্দেশে তাঁকে তিন দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
বেয়ারার গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শহরের নানা মহলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন শ্রমজীবী কর্মীর বিরুদ্ধে এত কড়া পদক্ষেপ কতটা যুক্তিসঙ্গত। কয়েকজন আইনজীবীও তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। জানা যায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির একটি ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়। এই ধারায় কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট পানশালা এক বিবৃতিতে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চায়। সেই সঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তি তাঁর দায়ের করা অভিযোগ তুলে নেন। যদিও বেয়ারা জামিন পেয়েছেন, তবুও ঘটনার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সামাজিক মাধ্যমে চলা দীর্ঘ বিতর্কে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগও সামনে আসে। অভিনেতা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও একটি এফআইআর এখনও বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত সায়ক চক্রবর্তী নিজেও একটি বিবৃতি দিয়ে বলেন, রাগের মাথায় তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক থেকে দূরে থাকার কথাও জানান। একই সঙ্গে তিনি সব মানুষকে শান্ত থাকার এবং একসঙ্গে থাকার বার্তা দেন।


