রাজ্যে চলমান SIR প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেও তাৎক্ষণিক কোনও স্বস্তি পেল না রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে দিল্লি থেকে খালি হাতেই কলকাতায় ফিরতে হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চলির বেঞ্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণা করেছে। এর বাইরে রাজ্যের আপত্তি নিয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি আদালত। এর ফলে এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে যে তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অভিযোগ উঠছে, তা আপাতত বহাল থাকছে। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের শুনানি শেষে নথি আপলোড করতে হবে। আদালতের শুনানির পরেও এই সময়সীমা অপরিবর্তিত রইল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি। অথচ কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারিতেই এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি ও নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আদালতের পরবর্তী শুনানির আগেই পুরো প্রক্রিয়ার বড় অংশ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা।
গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সুপ্রিম কোর্টে সওয়ালের সময় তিনি একাধিকবার সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার কথা তুলে ধরেন। বিচারপতিদের সামনে আবেগপ্রবণ ভাষায় বক্তব্য রাখতে দেখা যায় তাঁকে। এমনকি এক পর্যায়ে হাত নেড়ে বক্তব্য রাখায় আদালতে উপস্থিত সরকারি আইনজীবীকেও তাঁকে থামাতে অনুরোধ করতে হয়।মুখ্যমন্ত্রী আদালতে দাবি জানান, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব জেলা শাসক ও নির্বাচনী আধিকারিকদের হাতেই থাকা উচিত, বাইরের পর্যবেক্ষকদের নয়। তবে এই আপত্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কমিশনের আইনজীবী জানান, রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় আধিকারিক দিতে সহযোগিতা না করায় বাধ্য হয়েই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আদালতে দীর্ঘ শুনানি হলেও রাজ্যের দাবির পক্ষে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ মেলেনি। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীকে অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের দিন ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আর বক্তব্য রাখেননি তিনি। দিল্লি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের দেখা গেলেও কোনও মন্তব্য না করে হাত নেড়ে গাড়িতে উঠে যান মুখ্যমন্ত্রী।


