বুধবার থেকে শুরু হল মহান সুফি সাধক হযরত সৈয়দ শাহ রওশন আলী আলকাদেরী আল বাগদাদীর বার্ষিক উরস উৎসব। ভক্তদের কাছে তিনি ‘কুতুবে বারী পাক’ নামেই অধিক পরিচিত। তার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এই বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, আঠারো শতকে তিনি ইরাকের বাগদাদ থেকে ভারতে আগমন করেন। বড় ভাই হযরত সৈয়দ শাহ যাকের আলীর সঙ্গে সমুদ্রপথে ওড়িশার চাঁদবালি বন্দরে এসে পৌঁছন। পরে বিহারের কুশী নদীর ধারে একটি নির্জন এলাকায় তিনি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র বা খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে সেই স্থানটি তার নাম অনুসারে ‘হযরত রওশনগঞ্জ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। তার জীবন ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ সুফি পথ অনুসরণ করেন।
ধর্মপ্রাণ মানুষদের মতে, তিনি কাদেরিয়া তরিকার একজন বিশিষ্ট সাধক এবং হযরত আবদুল কাদের জিলানীর বংশধর। তার শিক্ষা ছিল মানবসেবা, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। সেই কারণেই আজও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ তার উরসে সমবেত হন। এ বছর তার ২৫৩তম উরস উপলক্ষে কলকাতা, মেদিনীপুর, বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও দুই ২৪ পরগনাসহ একাধিক জেলায় খানকাহ ও মসজিদে বিশেষ দোয়া, কোরআনখানি, মিলাদ এবং লঙ্গরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে মূল অনুষ্ঠানটি হচ্ছে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার রওশনগঞ্জে অবস্থিত তার দরগাহ প্রাঙ্গণে। স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী ফাগুন মাসের ৩ তারিখ, অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের এই অনুষ্ঠান। সেখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগমের আশা করা হচ্ছে। সমগ্র আয়োজনের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বর্তমান সাজ্জাদানশীন হযরত সৈয়দ শাহ ইয়াসূব আলী আলকাদেরী। শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়েই চলছে এবারের উরস উৎসব।


