রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত রবিবার নাগরিকদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, কেউকে সন্দেহজনক ভাবে “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” মনে হলে তা পুলিশকে জানাতে। তার দাবি, “ভাষা শুনলেই অনেক সময় বোঝা যায় তারা বাইরের লোক।” যদিও তিনি কোন ভাষার কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
মুম্বইয়ে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের অনেক কাজ বাকি রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে। কাউকে অনুপ্রবেশকারী বলে বলে সন্দেহ হলে প্রশাসনকে জানালে পুলিশ তদন্ত করে নজরদারি চালাতে পারবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন কাউকে চিহ্নিত করা ও ফেরত পাঠানোর কাজ ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা বাড়বে। জনগণনা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের মতো প্রক্রিয়ায় অনেক সময় অ-নাগরিকদের নাম ধরা পড়ে এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তার এই মন্তব্যের পর বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নানা প্রান্তে বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক জায়গায় তাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্থা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। কিছু ক্ষেত্রে মারধর ও প্রাণহানির ঘটনাও সামনে এসেছে।
সমালোচকদের মতে, এমন বক্তব্য জনতার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও ভয় বাড়াতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ সন্দেহের বশে নিরীহ লোকজনকেও হয়রানি করতে পারে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে বাংলা ভাষী মুসলিমদের আটক করে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে পুলিশ। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে যেন কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য না করা হয়। আইন মেনে ও সঠিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়াই উচিত। এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।


