কেরলে জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জি (এনপিআর) কার্যকর করার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই এই প্রক্রিয়া কেরলের মাটিতে চালু করতে দেওয়া হবে না। শীঘ্রই দেশজুড়ে জনগণনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কাজ কেরলেও হবে, তবে তার সঙ্গে এনপিআর যুক্ত করা হলে রাজ্য প্রশাসন তা মানবে না বলেই জানিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের দফতর থেকে সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জনগণনার আড়ালে এনপিআরের কাজ শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। রাজ্যের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এনপিআর সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা বহাল রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এই অবস্থান নতুন করে জানানো হয়েছে। অনেকেই মনে করছিলেন, জনগণনার সঙ্গে এনপিআরের তথ্য সংগ্রহ শুরু হতে পারে। সেই ভয় দূর করতেই প্রশাসনের এই ঘোষণা। উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিরোধিতার ক্ষেত্রেও কেরল প্রথম সারিতে ছিল। বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাস করে আইনটির বিরোধিতা করা হয়। এমনকি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সিএএ ও এনআরসি, দুই ক্ষেত্রেই রাজ্যের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট এবং অনড়।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, জনগণনার উদ্দেশ্য যদি শুধুমাত্র সামাজিক ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ হয়, তবে প্রশাসন পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কিন্তু অন্য কোনও লক্ষ্য থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না। কোভিডের কারণে বহুদিন বন্ধ থাকার পর জনগণনা ফের শুরু হওয়ার ঘোষণার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কেরল সরকার জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধানের মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে তারা কোনও আপস করবে না।


