উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বার শহরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক নজির গড়ে আজ চরম বিপদের মুখে পড়েছেন এক জিম প্রশিক্ষক দীপক কুমার। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধ মুসলিম দোকানদারকে উগ্রপন্থী সংগঠনের কর্মীদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে এখন সামাজিক বয়কট, আর্থিক সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে দীপক কুমারের।
দীপকের পরিচালিত ‘হাল্ক জিম’ একসময় এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন সদস্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে আসতেন। কিন্তু জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর সেই ছবি পুরোপুরি বদলে যায়। বর্তমানে মাত্র ১৪ জন সদস্য জিমে আসছেন। দীপকের অভিযোগ, প্রতিবেশী ও পুরনো গ্রাহকদের অনেকেই ইচ্ছে করেই দূরত্ব বজায় রাখছেন।
দীপক জানান, ৩১ জানুয়ারি একদল উত্তেজিত মানুষ জিমের সামনে ভিড় জমায়। বাইরে চিৎকার, গালিগালাজ ও হুমকির পরিবেশ তৈরি হয়। ভেতরে থাকা মহিলা ও যুবকরা আতঙ্কে জিম ছেড়ে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে অনেকেই আর ফিরে আসেননি। এমনকি অন্যদেরও জিমে না আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তার দাবি। এমনকি অভিভাবকরাও সন্তানদের পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ২৬ জানুয়ারি। ‘বাবা গারমেন্টস’ নামে এক মুসলিম ব্যবসায়ীর দোকানের নাম নিয়ে আপত্তি তোলে কিছু সংগঠন। তাদের দাবি, এই নাম স্থানীয় মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। পরে ৩১ জানুয়ারি আবারও বিক্ষোভ হয় দোকান ও দীপকের জিমের সামনে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দিলেও সামাজিক প্রভাব রয়ে যায়।
এই ঘটনার পর দীপককে কটাক্ষ করে নানা নামে ডাকা হচ্ছে। ব্যবসা প্রায় বন্ধের মুখে। প্রতি মাসে জিমের ভাড়া ও বিদ্যুৎ বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ, সঙ্গে রয়েছে ১৬ হাজার টাকার হোম লোন। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি তার ৭০ বছরের মা বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে চায়ের দোকান খুলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে তার সাহসিকতার প্রশংসা হলেও বাস্তবে তিনি একঘরে হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, তাকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে পুরস্কার ঘোষণা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। মানবতার পাশে দাঁড়ানোই আজ দীপকের জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই হয়ে উঠেছে বলে বলে করছেন অনেকেই।


