এবার সামনে এল এক এমন তথ্য, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে নিয়ে সম্প্রতি এমন এক দাবি ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা তার রাজনৈতিক অতীত ও সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সূত্রের দাবি, কংগ্রেস ছাড়ার পর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন তিনি অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন, তখন ২০১৫ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুফি পীর দেওয়ান মহম্মদ সাঈদুর রহমান চিশতী সাঈদাবাদীর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি নিজের নানা সমস্যা ও দুশ্চিন্তার কথা তুলে ধরে ‘দুয়া’ নেন সাঈদাবাদীর কাছে । জানা যায়, ওই পীর সাহেবই তাকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ মেনেই কয়েক মাসের মধ্যে, ২০১৫ সালের আগস্টে, তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর তার রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকদের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি কোনও হিন্দু সাধু বা জ্যোতিষীর কাছে না গিয়ে এক মুসলিম পীরের দ্বারস্থ হন। অথচ প্রকাশ্যে তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মুসলিমদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। এতে তার বক্তব্য ও আচরণের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
এছাড়াও আরও কিছু প্রশ্ন সামনে আসছে। তিনি কি বাংলাদেশে গিয়ে ওই পীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন? যদি করে থাকেন, তবে তা প্রকাশ্যে কেন জানাননি? ওই সাক্ষাৎ তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলেছিল, সে বিষয়ে তিনি কখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি কেন? ভবিষ্যতেও তিনি সীমান্তের ওপার থেকে কোনও পরামর্শ নিচ্ছেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন সমালোচকরা। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


