উত্তরপ্রদেশের মীরাটে এক ভিন্ন ধর্মে বিবাহকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। মুসলিম যুবক শাহভেজ রানা ও বৌদ্ধ তরুণী আকাঙ্ক্ষা গৌতমের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। তার আগেই কনের কাকার অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের ধর্মান্তর বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযোগকারী প্রেমচাঁদ গৌতমের দাবি, যুবকটি নিজের পরিচয় গোপন করে ‘সাহিল’ নামে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাঁর অভিযোগ, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে তরুণীকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এমনকি সম্পত্তির বিষয়েও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে আকাঙ্ক্ষা ও তাঁর মা এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, গত ছয় বছর ধরে দু’জনের সম্পর্ক রয়েছে এবং তা সম্পূর্ণ সম্মতিতেই। আকাঙ্ক্ষার দাবি, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আকাঙ্ক্ষা বলেন, “আমি প্রাপ্তবয়স্ক। নিজের জীবনসঙ্গী নিজেই ঠিক করব।” তিনি আরও জানান, বিষয়টিকে ধর্মীয় রঙ না দেওয়ার আবেদন করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি হিন্দু নই, বৌদ্ধ। আমাদের সম্পর্ককে ‘লাভ জিহাদ’ বলে দেখাটা ঠিক নয়।”
এদিকে, একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিয়ের স্থানের বাইরে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়। সংগঠনের নেতারা অভিযোগ সমর্থন করে তদন্তের দাবি তোলেন। যদিও পুলিশ প্রশাসন জানায়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিয়ের কার্ডে ব্যবহৃত নাম নিয়ে যে বিভ্রান্তির কথা বলা হচ্ছে, সেটিও তদন্তের অংশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, “অভিযোগ এসেছে, আমরা নিরপেক্ষভাবে তা যাচাই করছি। কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার প্রশ্ন নেই।”
ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চর্চা তুঙ্গে। একদিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন, অন্যদিকে ধর্মান্তর বিরোধী আইনের প্রয়োগ—দুইয়ের টানাপোড়েনে এখন মীরাটের এই ঘটনা নজর কাড়ছে রাজ্যজুড়ে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন দেখার।


