মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ বাড়ছে। শনিবার পার্ক সার্কাসে আয়োজিত এক সভায় মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতি তাঁর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিধায়ক পদ থেকে অপসারণের দাবি তোলে। সংগঠনের অভিযোগ, মাদ্রাসা থেকে ‘ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার নয়, অপরাধী তৈরি হয়’—এই ধরনের মন্তব্য শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই অপমান করেনি, হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর আত্মসম্মানেও আঘাত করেছে।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বহু মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করে ছাত্রছাত্রীরা প্রশাসনিক পরিষেবা, গবেষণা ও বিভিন্ন পেশায় সাফল্য পেয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে কয়েকজন কৃতী প্রাক্তনীর নামও তুলে ধরা হয়। সংগঠনের এক নেতা বলেন, “একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘জঙ্গি তৈরির কারখানা’ বলা মানে সেখানে পড়া সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সন্দেহের চোখে দেখা। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বাজেট বরাদ্দ নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, মাদ্রাসা খাতে যে অর্থ বরাদ্দ হয়, তার বড় অংশ অবকাঠামো ও হোস্টেল নির্মাণ-সহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে রাজ্যে ৬১৪টি মাদ্রাসার বিপরীতে হোস্টেলের সংখ্যা তুলনামূলক কম বলেও উল্লেখ করা হয়।
সমিতির দাবি, মাদ্রাসায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অমুসলিম ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক রয়েছেন। “তাঁরাও কি তাহলে অপরাধী?”—এই প্রশ্ন তুলে সংগঠন জানায়, শিক্ষাকে ধর্মীয় বিদ্বেষের রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। ক্ষমা না চাইলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক বলেন, এ ধরনের মন্তব্যে অভিভাবকদের মধ্যেও অযথা আতঙ্ক ছড়ায়, যার প্রভাব পড়ে পড়ুয়াদের মনে।


