রাজ্যে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা করেছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘যুব সাথী’ নামে এই উদ্যোগকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার দাবি করছে, কর্মহীন তরুণদের পাশে দাঁড়াতেই এই পদক্ষেপ। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের আগে এই পরিকল্পনা অন্য মাত্রা পেতে পারে।
রবিবার থেকে বিভিন্ন জায়গায় নাম নথিভুক্ত করার শিবির শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই বহু এলাকায় দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। সকাল থেকে বহু তরুণ-তরুণী প্রয়োজনীয় নথি হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই ভিড় রাজ্যের কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই বলছেন, এত মানুষের ভিড়ই প্রমাণ করছে, পশ্চিমবঙ্গের যুবক-যুবতীরা পড়াশোনা করেও কাজের অভাবে বেকারত্ব পালন করছে।
রাজ্য বাজেটে প্রথমে জানানো হয়েছিল, ১৫ই আগস্ট থেকে প্রকল্প কার্যকর হবে। পরে সিদ্ধান্ত বদলে জানানো হয়, ১লা এপ্রিল থেকেই ভাতা দেওয়া শুরু হবে। ফলে নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীনই আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক মারফত টাকা পৌঁছাতে পারে। এখানে তীব্র বিরোধিতা যারা আছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিরোধীরা দাবি করছে, ভোটের আগে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও শাসকদলের বক্তব্য, যুব সমাজের উপকারই মূল লক্ষ্য।
সরকারি হিসাবে এই প্রকল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রায় ২৭ লক্ষের কিছু বেশি তরুণ বছরে ১৮ হাজার টাকা করে পেতে পারেন বলে জানা গেছে। ২১ থেকে ৪০ বছরের কর্মহীন যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশের শংসাপত্র জমা দিতে হবে। তবে আবেদনকারী সত্যিই বেকার কি না, তার আলাদা প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে না। নিজ দায়িত্বে ঘোষণা করলেই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লক্ষাধিক যুবক-যুবতীদের নাম এই প্রকল্পে নথিভুক্ত হয়েছে। ‘যুব সাথী’ প্রকল্প বাস্তবে কতটা স্বস্তি দেবে, তা সময়ই বলবে।


