ভারতের নতুন বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা অভিযোগ করেছে, এই চুক্তির ফলে দেশের কৃষি বাজার বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য বড় আকারে খুলে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বিষয়টি নিয়ে সঠিক তথ্য দেননি এবং কৃষকদের ভুল বার্তা দিয়েছেন। তাই তাঁর পদত্যাগ চেয়ে তারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের নেতারা জানান, আগে বলা হয়েছিল কৃষি খাত নাকি চুক্তির বাইরে থাকবে। কিন্তু যৌথ ঘোষণায় দেখা যায়, কৃষি ক্ষেত্রই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের মতে, এতে দেশের স্বনির্ভরতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বিদেশি কোম্পানিগুলি ভারতীয় বাজারে বাড়তি সুবিধা পাবে।
সংযুক্ত কিষান মোর্চা ইতিমধ্যে গ্রামাঞ্চলে প্রচার কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভা, মিছিল ও প্রচারপত্রের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনের আশঙ্কা, কম দামে বিদেশি কৃষিপণ্য বাজারে এলে দেশীয় চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিশেষ করে তুলো চাষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে এক কুইন্টাল তুলোর সহায়ক মূল্য ৭৭১০ টাকা, যেখানে বিশেষজ্ঞদের মতে তা ১০,০৭৫ টাকা হওয়া উচিত। এই অবস্থায় শুল্ক ছাড় পেয়ে বিদেশি তুলো ঢুকলে স্থানীয় চাষিরা আরও সমস্যায় পড়বেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই চুক্তিতে কৃষক ও রপ্তানিকারকদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারের সিদ্ধান্তে বিদেশি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী লাভবান হবে, অথচ দেশের উৎপাদকরা বঞ্চিত হবেন। সব মিলিয়ে বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। কৃষক সংগঠনগুলি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।


