রবিবার থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে নতুন সরকারি প্রকল্প ‘বাংলার যুব সাথী’-র আবেদনপত্র বিতরণ। বিভিন্ন জেলায় জেলায় দেখা যাচ্ছে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের দীর্ঘ লাইন। বহু তরুণ-তরুণী মাসে দেড় হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার আশায় নাম নথিভুক্ত করতে ভিড় করেছেন। তবে আবেদন করতে এসে অনেকের মুখেই শোনা গেল একটাই কথা, “ভাতা নয়, স্থায়ী কাজের সুযোগ চাই।”
কাটোয়ার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষ্ণা দত্ত যুব সাথীর আবেদনপত্র নিতে এসে জানান তার ছেলে বিটেক পাশ করেও এখনও চাকরি পাননি। চোখের জল সামলাতে না পেরে তিনি বলেন, সামান্য টাকার সাহায্য নয়, তার ছেলের জন্য একটি সম্মানজনক চাকরি প্রয়োজন। অন্যদিকে সন্দীপকুমার মিত্র নামক এক বাসিন্দার বক্তব্য, মাসে দেড় হাজার টাকার বদলে যদি একটি স্থায়ী চাকরি মিলত, তাহলে ভবিষ্যৎ অনেক বেশি সুরক্ষিত হতো।
রায়গঞ্জের বসন্তকুমার সরকার জানান, চাকরির আবেদন করতে গেলেও নানা খরচ হয়। বই-খাতা কেনা, ফর্ম জমা দেওয়া, সব মিলিয়ে টাকার দরকার পড়ে। একটা বয়সের পর পরিবারের কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে। মহিষাদলের কেয়া জানা ২০২১ সালে নার্সিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তারপর বহু পরীক্ষা দিলেও চাকরি পাননি। তার কথায়, নিয়মিত কাজই জীবনে স্থিরতা আনতে পারে। শুধু ভাতা দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়া কঠিন। তারা আরও জানান, দেড় হাজার টাকায় বর্তমান বাজারে তেমন কিছু হয় না। দৈনিক হিসাবে তা খুবই কম।


