সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে ঘিরে। তাঁর সঙ্গে জেফরি এপস্টাইন–এর ইমেল যোগাযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগের তরফে কিছু ইমেল প্রকাশ করা হয়। সেখান থেকেই জানা যায়, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে পুরী ও এপস্টাইনের মধ্যে একাধিক বার্তা আদানপ্রদান এবং সাক্ষাৎ হয়েছিল। এই প্রসঙ্গটি লোকসভায় উত্থাপন করেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এরপরই বিষয়টি নিয়ে চাপে পড়েন পুরী। তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন। পুরীর দাবি, তিনি তখন একজন কূটনীতিক হিসেবে কাজ করছিলেন এবং বিদেশি বিনিয়োগ ভারতে আনার উদ্দেশ্যেই এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁর কথায়, এই যোগাযোগ ছিল পেশাগত ও ব্যক্তিগত সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
তবে প্রকাশিত ইমেলগুলির কিছু অংশ ঘিরে বিতর্ক বাড়ছে। বিশেষ করে একটি ইমেলে দেখা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবরে এপস্টাইনের এক সহকারীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভারতীয় ভিসার আবেদন করা হয়। পুরী সেই আবেদন দ্রুত দেখার নির্দেশ দেন তৎকালীন রাষ্ট্রদূতকে। যদিও তিনি বলেন, এটি ছিল নিয়মমাফিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, কোনও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়নি। আরও একটি ইমেলে ডিসেম্বর মাসে পুরী এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে আনন্দ করার প্রসঙ্গ তোলেন। এই মন্তব্য নিয়েই বেশি সমালোচনা হচ্ছে। পুরীর বক্তব্য, এটি ছিল সাধারণ সৌজন্যমূলক কথা, তিনি কখনও ওই দ্বীপে যাননি এবং তখন এপস্টাইনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই ইমেল প্রকাশের পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ ও কর্পোরেট দুনিয়ায় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ভারতে বিরোধী দলগুলি পুরীর পদত্যাগ দাবি করলেও কেন্দ্রীয় সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পুরী অবশ্য সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই বিষয়টি বড় করে দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, দেশের স্বার্থ রক্ষাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তবে বিরোধীরা মনে করছে, এই ঘটনার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


