২০২৪ সালের আগস্ট মাসে যখনই ইন্দোরের চন্দন নগর থানার পুলিশ কোনো অভিযানে গিয়েছে, প্রায়ই একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে স্বাধীন সাক্ষী হিসেবে হাজির থাকতে দেখা গেছে, সালমান কুরেশি। ১লা সেপ্টেম্বর গভীর রাতেও একই ছবি দেখা যায়, যখন এক আইন শিক্ষানবিশকে আটক করা হয়।
২৪ বছর বয়সী আসাদ আলি ওয়ারসি, ইন্দোরের গ্রিন পার্ক কলোনির বাসিন্দা। ৩১ আগস্ট রাতে অসুস্থ আত্মীয়র জন্য ওষুধ খুঁজতে বেরিয়েছিলেন তিনি। বন্ধু আরবাজ শেখকে সঙ্গে নিয়ে কাধাভ ঘাট এলাকা থেকে ফেরার পথে রাত প্রায় ১টা ১৫ মিনিটে পুলিশ তাদের থামায়। ওয়ারসির দাবি, তাকে মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালানোর অভিযোগে ৫ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। তিনি অস্বীকার করেন এবং ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষার কথা বলেন। কিন্তু পুলিশের কাছে সেই যন্ত্র ছিল না।
জানা গিয়েছে, সেই সময় ওয়ারসি তার ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং শুরু করেন। অভিযোগ, পুলিশ তাকে মারধর করে ফোন ফেলে দেয়। পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবুও শান্তিভঙ্গের সম্ভাবনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সাক্ষী হিসেবে নাম ওঠে সালমান কুরেশি ও আমির রঙ্গরেজের। ওয়ারসির অভিযোগ, তাকে থানায় পরণের কাপড় খুলে আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে আদালতে ভিডিও প্রমাণ খতিয়ে দেখে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে অভিযোগ খারিজ হয়। এরপর ওয়ারসি খোঁজ নিতে শুরু করেন, কেন একই ব্যক্তিরা বারবার সাক্ষী হচ্ছেন। সিসিটিএনএস পোর্টালে খুঁজে তিনি দেখেন, অক্টোবর ২০২৩ থেকে অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত ১৭৬টি মামলায় একই সাক্ষীদের নাম রয়েছে, যার মধ্যে ১৬৫টিতেই কুরেশি ও রঙ্গরেজ যুক্ত।
এ বিষয়টি তিনি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনেন। অন্য এক মামলার শুনানিতে হস্তক্ষেপের আবেদন করেন তিনি। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ করেন, একই সাক্ষীকে বারবার ব্যবহার করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। পরবর্তীতে ইন্দোরের পুলিশ কমিশনার সন্তোষ কুমার সিংহ শহরজুড়ে নির্দেশ জারি করেন, তদন্তে নিরপেক্ষ ও সম্মানিত স্থানীয় সাক্ষী রাখতে হবে।
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট চন্দন নগর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্দ্রমণি প্যাটেলকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, এই ধরনের প্রথা আইনের শাসনের মূল ভিত্তিকে আঘাত করে।
ওয়ারসি বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত। তার কথায়, নিজের অধিকার জানতেন বলেই তিনি সেদিন সাহস করে ভিডিও করেছিলেন। এই ঘটনা পুলিশি কার্যকলাপের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


