বিহারে মাছ ও মাংস বিক্রি নিয়ে নতুন নিয়ম আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠনের পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা জানান, এখন থেকে প্রকাশ্যে বা রাস্তার ধারে খোলা জায়গায় মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না। কেবলমাত্র যাঁদের সরকারি অনুমতি বা লাইসেন্স থাকবে, তাঁরাই নির্দিষ্ট বাজার বা নির্ধারিত স্থানে এই পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনও সম্প্রদায় বা খাদ্যাভ্যাসের বিরুদ্ধে নয়। উপমুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মানুষ কী খাবেন তা সরকার ঠিক করছে না। মূল লক্ষ্য হল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রোধ করা। খোলা জায়গায় বিক্রির ফলে নোংরা জমে, দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং এতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। সেই কারণেই নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে ঠিক কবে থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
বিহারের মতো রাজ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন অনেকেই। কারণ রাজ্যের বড় অংশের মানুষ নিয়মিত মাছ ও মাংস খান। বহু ছোট ব্যবসায়ী বছরের পর বছর ধরে হাট-বাজার বা রাস্তার পাশে বসে এই পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নতুন নিয়ম চালু হলে তাঁদের আয়ের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক বিক্রেতার বক্তব্য, লাইসেন্স পেতে সরকারি প্রক্রিয়া জটিল হলে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হবে। তাই তাঁরা আবেদন করেছেন, লাইসেন্স ব্যবস্থা সহজ করা হোক এবং নিয়ম মানার জন্য কিছু সময় দেওয়া হোক। শহরের একাংশ অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে পরিবেশ পরিষ্কার থাকবে এবং দুর্গন্ধ কমবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আগে বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এমন ঘোষণা করা ঠিক হয়নি। তাঁরা মনে করছেন, এতে গরিব ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।উল্লেখযোগ্য, এর আগে বিহারে মদ বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। পাশাপাশি, গত মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশ-এ ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ফলে বিহারের এই নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।


