Wednesday, October 21, 2026
27 C
Kolkata

দেশের সর্বোচ্চ পুলিশি পদে বৈষম্যের প্রশ্ন, ৯ রাজ্যে নেই মুসলিম ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ

মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নতুন বই ‘অ্যাট দ্য বটম অফ দ্য ল্যাডার: স্টেট অফ দ্য ইন্ডিয়ান মুসলিমস’ প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বইটিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি প্রতিষ্ঠানে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলিতে মুসলিমদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম বলে সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।

বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১,০০১ জন ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ২৭ জন মুসলিম ছিলেন। দিল্লি, হরিয়ানা, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরাখণ্ড, তেলেঙ্গানা ও তামিলনাড়ুসহ একাধিক রাজ্যে আজ পর্যন্ত কোনো মুসলিম ডিজিপি দায়িত্ব পাননি। অন্যদিকে পুদুচেরি ও লাক্ষাদ্বীপে সীমিত সংখ্যক মুসলিম পুলিশ প্রধানের নজির রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন পুলিশ একাডেমির প্রধানদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২৯৪ জন প্রধানের মধ্যে মাত্র সাতজন মুসলিম ছিলেন। ২০২৪ সালের শেষে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজারের বেশি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসপি) পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে মুসলিম ছিলেন ৩০১ জন। বর্তমানে এসপি ও অতিরিক্ত এসপি মিলিয়ে ১,৮৮৪ জনের মধ্যে মুসলিমের সংখ্যা ৬৮।

২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ৩৪ জন ডিজিপির মধ্যে মাত্র একজন মুসলিম কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন। বিভিন্ন রাজ্যের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বহু জায়গায় এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব শূন্য বা অত্যন্ত কম। উত্তরপ্রদেশ, অসম, গুজরাত, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে হাতে গোনা কয়েকজন মুসলিম ডিজিপির উদাহরণ মিলেছে। আবার অরুণাচল প্রদেশ, গোয়া, হিমাচল প্রদেশ, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ওড়িশা, রাজস্থান, সিকিম, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনো মুসলিম ডিজিপি হননি।

পুলিশ কমিশনার পদেও একই প্রবণতা দেখা যায়। দেশের ৭১টি বড় শহরে কমিশনারেট ব্যবস্থা চালু রয়েছে। মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতে অল্প কয়েকজন মুসলিম কমিশনার দায়িত্ব পালন করেছেন। কেরলের কয়েকটি শহর এবং হরিয়ানার কিছু এলাকাতেও মুসলিম পুলিশ কমিশনারের নজির রয়েছে।

বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট ডিজিপি নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেয়। ২০১৮ সালে সেই নির্দেশে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদ নিশ্চিত করা।
সব মিলিয়ে এই গবেষণাধর্মী বইটি দেখাচ্ছে, দেশের পুলিশ ব্যবস্থার উচ্চস্তরে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত।

Hot this week

থিমের দাপট বন্ধ হোক, হইহুল্লোড় নয়’, আগামী বছর থেকে সাত্ত্বিক পুজোর ডাক কৌস্তভ বাগচীর!

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর পুজোর...

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা, বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়ার সুযোগ দিতে সাজা স্থগিত করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ...

চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর পর প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরাপত্তা, দায়িত্বে ছিলেন দুই ডিসি!

দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বরাবরই প্রশংসা...

‘নীতীশকে সাহায্য করতে ৯ জনকে খুন!’ বিস্ফোরক দাবি অনন্ত সিংয়ের, বিতর্কের মুখে সুর বদল বিধায়কের

বিহারে বিধান পরিষদের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন...

Topics

থিমের দাপট বন্ধ হোক, হইহুল্লোড় নয়’, আগামী বছর থেকে সাত্ত্বিক পুজোর ডাক কৌস্তভ বাগচীর!

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর পুজোর...

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা, বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়ার সুযোগ দিতে সাজা স্থগিত করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ...

চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর পর প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরাপত্তা, দায়িত্বে ছিলেন দুই ডিসি!

দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কলকাতা পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বরাবরই প্রশংসা...

‘নীতীশকে সাহায্য করতে ৯ জনকে খুন!’ বিস্ফোরক দাবি অনন্ত সিংয়ের, বিতর্কের মুখে সুর বদল বিধায়কের

বিহারে বিধান পরিষদের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন...

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, পুজো কমিটির দখল নিয়ে বিতর্ক! নিশানায় বিজেপি নেতৃত্ব

উৎসবের আবহে বিষাদের ছায়া। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে...

Related Articles

Popular Categories