পবিত্র মক্কা ও মদিনার পর মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান হলো জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদ। ইসলামের শুরুর সময়ে মুসল্লিরা এই মসজিদের দিকেই মুখ করে নামাজ আদায় করতেন। পরে কিবলা পরিবর্তন হয়ে মক্কার কাবা শরিফের দিকে নির্ধারিত হলেও আল-আকসার গুরুত্ব এতটুকু কমেনি। ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক জীবনের সঙ্গে এই মসজিদ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।রমজান মাস এলেই আল-আকসা প্রাঙ্গণে ভিড় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বিশেষ করে জুমার দিনে হাজার হাজার মানুষ সেখানে একত্রিত হন নামাজ ও ইফতারে অংশ নিতে। গত বছরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি প্রথম জুমায় অংশ নেন। চলতি বছরও অনেকে আগের মতোই সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার সকালেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ইসরাইলি বাহিনী জানায়, সীমিত সংখ্যক মানুষকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। চেকপোস্টে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বয়সের শর্ত আরোপ করে বলা হয়, নির্দিষ্ট বয়সসীমার মানুষ এবং আগে অনুমতিপত্র পাওয়া ব্যক্তিরাই কেবল ঢুকতে পারবেন। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন।পশ্চিম তীর থেকে আসা বহু মানুষ আগের রাতেই রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু গেটে পৌঁছে তারা জানতে পারেন, অধিকাংশকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মানুষ দূর থেকে মসজিদের গম্বুজের দিকে তাকিয়ে চোখ ভরা জল নিয়ে ফিরে যান। অনেকের অভিযোগ, নিজেদের ভূমিতে থেকেও তারা স্বাধীনভাবে ইবাদত করতে পারছেন না। এর আগে মসজিদের ইমামকে আটক করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি, জুমার নামাজে খুব অল্পসংখ্যক মানুষ অংশ নিতে পেরেছেন। ফিলিস্তিনিদের মতে, দীর্ঘদিনের চুক্তি অনুযায়ী এখানে তাদের প্রার্থনার অধিকার থাকার কথা। তবে এবারের রমজানের প্রথম জুমায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ সেই অধিকারের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
রোজার প্রথম জুম্মা আদায় হলো না লক্ষাধিক মুসলিমের, ইসরাইলের বিধি- নিষেধে ফিরতে হলো আল-আকসা মসজিদ থেকে
Popular Categories


