সন্ধ্যার প্রার্থনার সময় লাউডস্পিকার নিয়ে বচসা—আর তার জেরেই উত্তেজনা ছড়াল মধ্যপ্রদেশের জবলপুর জেলার শিহোরা শহরে। আজাদ চক বাজার এলাকায় পাশাপাশি একটি দুর্গা মন্দির ও একটি মসজিদ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে দ্রুত পাথর ছোড়াছুড়িতে গড়ায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
ঘটনার পর মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। দোকানপাট তড়িঘড়ি বন্ধ হয়ে যায়, পথচলতি মানুষ আশ্রয় নেন আশপাশের বাড়িতে। “হঠাৎই চিৎকার আর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। আমরা শাটার নামিয়ে দিই,” বলেন বাজারের এক ব্যবসায়ী। আরেক বাসিন্দার কথায়, “ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন পরিস্থিতি—কেউই চাইনি।”
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকেরা বড় বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, টহলও চলছে।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাথর ছোড়া ও ভাঙচুরে জড়িত সন্দেহে এক ডজনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও কয়েক জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। কোনও ধর্মীয় স্থাপনার বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই, গুরুতর আহতও কেউ নন বলে প্রশাসনের দাবি।
জেলা শাসক রাঘবেন্দ্র সিংহ নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন, গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের উপর ভরসা করতে। পুলিশ সুপার সম্পত উপাধ্যায় জানান, “সামান্য বিরোধ থেকেই উত্তেজনা বেড়েছিল। দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে এলাকায় কড়া নিরাপত্তা রাখা হয়েছে।”
প্রশাসনের বার্তা, উৎসব-প্রার্থনার সময় পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি। দু’পক্ষের প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলেও শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। শহরজুড়ে আপাতত স্বাভাবিকতা ফিরলেও সতর্ক নজরদারি চালু রয়েছে।


