মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলায় এক ‘মজার ভিডিও’ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, রমজান মাসে সেহরির পর দুই মুসলিম নাবালক কিশোর পাড়ার কয়েকটি গরুর মাথায় টুপি (তাকিয়াহ) পরিয়ে একটি ভিডিও বানায়। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়।
ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘সেহরির পর মজা’। প্রথমে বন্ধুমহলে শেয়ার হলেও পরে তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঘুরতে থাকে। কিছু স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ তোলেন, গরুকে—যাকে হিন্দু ধর্মে পবিত্র মনে করা হয়—অন্য ধর্মের প্রতীকী পোশাক পরিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এর পরেই ক্যান্টনমেন্ট থানায় দুই কিশোরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে এক কিশোরের মা থানায় ছুটে যান। তাঁর কথায়, “ওরা ছোট ছেলে, না বুঝে ভুল করেছে। কারও ভাবাবেগে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না।” তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও প্রস্তুত বলে জানান এবং অনুরোধ করেন, আইনি পদক্ষেপ যেন ওদের ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে।
তবে অভিযোগকারীরা আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে আবারও সামনে এল গরু-সম্পর্কিত সংবেদনশীলতার প্রশ্ন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্র্যাঙ্ক’ ভিডিওর পরিণতি। বিশেষ করে নাবালকদের জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, “যা হয়তো কিশোরদের কাছে নিছক হাসিঠাট্টা, তা অন্যের কাছে গভীর আঘাতের কারণ হতে পারে।”
এলাকায় আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা থামেনি। অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনায় আইনের পাশাপাশি সংযম ও সংলাপ—দুই-ই জরুরি।


