মধ্যপ্রদেশের জবলপুর জেলার সিহোরা শহরে মন্দির ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। পাথর ছোড়াছুড়ি, দোকান ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয় আজাদ চৌকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকায় কড়া পুলিশি পাহারা জারি রয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, একটি দুর্গা মন্দিরে আরতির সময় নিরাপত্তা গ্রিল ভাঙাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। মুহূর্তের মধ্যে তা বড় আকার নেয়। অভিযোগ, দুই দিক থেকেই পাথর ছোড়া হয় এবং আশপাশের দোকানপাট ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, সেদিনের আরতিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লোক জড়ো হয়েছিল এবং উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হয়। ওই সময় রমজান উপলক্ষে তারাবির নামাজ চলছিল। শব্দ কমানোর অনুরোধ জানাতে গেলে এক কিশোরের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পরে গ্রিল ভাঙার গুজব ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি তাঁদের।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাথর ছোড়ার ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপ পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। মসজিদ চত্বরেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয় বলে অভিযোগ, যার জেরে আতঙ্ক ছড়ায়। কয়েক জনকে আটকও করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পাথর ছোড়ার ঘটনায় ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এফআইআর দায়ের হয়েছে।
সংঘর্ষের পর শহরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একদল হিন্দু বাসিন্দা সমবেতভাবে হনুমান চালিসা পাঠ করেন। অন্য দিকে, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দোকানপাট বেশিরভাগই বন্ধ।
জবলপুরের জেলা শাসক ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী জেলাজুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনও জমায়েত, বাইক মিছিল বা উচ্চস্বরে ডিজে বাজানো যাবে না। সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্টের বিরুদ্ধেও কড়া নজরদারি চলছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
শহরে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলেই প্রশাসনের দাবি। তবে স্থানীয়দের মতে, আতঙ্ক এখনো কাটেনি। রমজানের প্রথম শুক্রবারে নিয়মিত নামাজও ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ।
সিহোরার এই ঘটনার জেরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও জনসমাগমের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সংবেদনশীলতা ও সতর্কতা কতটা জরুরি। আপাতত শান্তি বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের সামনে।


