ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পরিবর্তন চায় না। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা নিজের সুবিধা নিশ্চিত করবে, তবে ভারতের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের বিষয়েই জোর দেওয়া হবে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই দেশে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদেশ মন্ত্রক বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি। তারা জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়াশিংটনে তিন দিনের বৈঠকে বসবেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। ভারতের প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এই বৈঠকে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।
তবে বিরোধী শিবির এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমঝোতায় উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার আলোচনায় ভারতের লাভ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও জানতে চান, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে শুল্ক সংক্রান্ত মামলার রায়ের সম্ভাবনা জানা সত্ত্বেও কেন এত তাড়াহুড়ো করা হলো।
এদিকে কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিশান মোর্চার চুক্তির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, এই সমঝোতার ফলে ভারতের কৃষিক্ষেত্র বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সংগঠনের অভিযোগ, বাণিজ্য মন্ত্রী পিযুষ গোয়েল কৃষকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে কৃষি এই চুক্তির অংশ নয়। কিন্তু মার্কিন কৃষি দফতরের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, কৃষিপণ্য রপ্তানির বড় সুযোগ পাচ্ছে আমেরিকা। কৃষক সংগঠনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি কর্পোরেট সংস্থাগুলি সরকারি ভর্তুকি পায়। ফলে কম দামে তাদের পণ্য ভারতে এলে দেশীয় চাষিরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। বিশেষ করে তুলো চাষিরা বড় সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুল্কে ছাড়ের কারণে বিদেশি তুলো বাজারে ঢুকলে দেশীয় উৎপাদনের দাম আরও কমে যেতে পারে। চুক্তি নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। গ্রামে গ্রামে প্রচার চালানো হবে বলে জানিয়েছে কৃষক সংগঠন। বিরোধীদের বক্তব্য, সরকারের উচিত মানুষের সংশয় দূর করে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া। আগামী বৈঠকে ভারতের স্বার্থ কতটা রক্ষা পায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সবার।


