Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত নাস্তানাবুদ করল ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে, এবার বেপরোয়া ‘কর’-এ কি পড়বে লাগাম?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আরোপ করা অনেক শুল্ক বাতিল করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হঠাৎ করে নতুন করে কর বসানোর ক্ষমতায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে অস্থির অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা এখনই পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সব ধরনের আমদানির ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করেন। পরে সেটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্য দপ্তরকে নির্দেশ দেন, ভবিষ্যতে অন্য আইনি পথ ব্যবহার করে কীভাবে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে। তবে ইতিমধ্যে প্রায় ২০টি দেশের সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিগুলো বহাল থাকবে বলেও তিনি জানান।

সাবেক মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তা ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো পদক্ষেপ নেন। এর ফলে অন্য দেশগুলো সবসময় চাপের মধ্যে থাকে। তার মতে, এই চাপের পরিবেশ তৈরি করে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের পাশাপাশি নানা শর্ত আদায় করার সুযোগ পান। যদিও আদালতের রায়ে তাঁর ক্ষমতায় কিছুটা লাগাম পড়েছে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আদালত জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফা ভাবে ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে শুল্ক বসাতে পারবেন না। এর ফলে যে কোনো সময়, যে কোনো কারণ দেখিয়ে কর আরোপ করার পথটি এখন আর আগের মতো খোলা নেই। এই আইনের সীমা টেনে দেওয়ায় ট্রাম্পের হাতে থাকা একটি বড় অস্ত্র কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়েছে।

Atlantic Council–এর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান জশ লিপস্কি বলেন, এই রায়ের প্রভাব এখনই পুরোপুরি বোঝা কঠিন। এটি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক নীতিতে ধাক্কা দিলেও তাঁকে পুরোপুরি থামিয়ে দিতে পারবে না। কারণ, অন্য আইনের আওতায় এখনও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ২০টি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, এসব চুক্তি বহাল থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক দেশই এখনই চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটবে না। কারণ, ওয়াশিংটনের বিরাগভাজন হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা আসতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতও একই সুরে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থানই বজায় রাখবে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories