বারাণসীর ডালমান্ডি এলাকায় কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মন্দিরে আগত ভক্তদের চলাচল সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই কাজের জেরে বহু দোকান ও বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।সরকারি তালিকা অনুযায়ী, মোট ১৮৭টি বাড়ি ভাঙার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় বহু সম্পত্তির মালিক হিন্দু হলেও অধিকাংশ দোকান ভাড়ায় নিয়ে ব্যবসা করতেন মুসলিম ব্যবসায়ীরা। ফলে জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ডালমান্ডি বারাণসীর অন্যতম পুরনো ও ব্যস্ত বাজার। এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় এবং এটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।এই উচ্ছেদ ঘিরে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (সপা) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। শনিবার চান্দৌলির সাংসদ বীরেন্দ্র সিং-সহ শতাধিক নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। অনেককেই বাড়িতে নজরবন্দি রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথেই বাধা দেওয়া হয়েছে। সপা নেতাদের বক্তব্য, তারা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে চেয়েছিলেন, আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার কোনও পরিকল্পনা ছিল না।বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটক হওয়ার আগে বীরেন্দ্র সিং সাংবাদিকদের বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনেই ভাঙার কাজ চলছে। প্রশ্ন তুললেই পুলিশি কড়াকড়ি বাড়ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। স্থানীয় সপা নেতা আসাদ আনসারিও দাবি করেছেন, তাঁদের আন্দোলনকে দমাতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।অন্যদিকে, প্রশাসনের এক কর্তার বক্তব্য, বেশ কিছু ভবনের অনুমোদিত নকশা নাকি পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই ভাঙন অভিযানে বহু পরিবার ও ব্যবসায়ীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Popular Categories


