রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রামগঞ্জ মান্ডিতে আয়োজিত গরু সংক্রান্ত এক কর্মসূচিতে তিনি বলেন, গরুর দুধ খেলে মানুষ মেধাবী হয়, আর মহিষের দুধ শরীরে আলস্য বাড়ায়। তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা ও বিজ্ঞান মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, দেশি জাতের গরুর দুধ নাকি বুদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক। অন্যদিকে মহিষের দুধ পান করলে নাকি মানুষ ঘুমঘুম ও ধীর হয়ে পড়ে। নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি কয়েকটি উদাহরণও দেন। তাঁর কথায়, গরুর বাছুরকে দূর থেকে ছেড়ে দিলে সে সহজেই মায়ের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু মহিষের শাবক নাকি ততটা দ্রুত সাড়া দিতে পারে না। আবার দুধ খাওয়ার পর গরুর বাছুর চনমনে থাকে, অথচ মহিষের শাবক ঝিমোতে থাকে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শুধু এখানেই থেমে থাকেননি শিক্ষামন্ত্রী। তিনি ভাষাগত দিক থেকেও তুলনা টেনে বলেন, গরুর বাছুর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলাদা আলাদা নামে পরিচিত হয়। কিন্তু মহিষের শাবকের ক্ষেত্রে তেমন বৈচিত্র্য নেই। এই সব যুক্তি মিলিয়েই তিনি দাবি করেন, গরুর দুধ অগ্রগতির প্রতীক, আর মহিষের দুধ স্থবিরতার ইঙ্গিত বহন করে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এমন বক্তব্যের পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ মূলত নির্ভর করে সুষম খাদ্য, প্রোটিন, ভিটামিন ও পরিচর্যার ওপর। গরু বা মহিষ—দু’ধরনের দুধেই প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকে। শুধু দুধের উৎস বদলালে কারও বুদ্ধি বাড়ে বা কমে—এমন তথ্য এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ১৪টি গ্রামে পুরনো রাখাল প্রথা চালুর কথাও ঘোষণা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি ৭০টি গরুর জন্য একজন করে গোয়ালা নিয়োগ করা হবে এবং তাঁর মাসিক পারিশ্রমিক হবে ১০ হাজার টাকা। এই উদ্যোগকে অনেকেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর ‘দুধ ও মেধা’ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে আলোচনা থামছে না। সমালোচকদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। না হলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে সাধারণ মানুষের মধ্যে।


