সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের SIR ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ার অধিকাংশ শুনানি শেষ হওয়ার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাৎ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেন এবং নিজে আইনজীবীর পোশাক পরে সওয়াল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। তাঁর সমর্থক মহল বিষয়টিকে বড় করে তুলে ধরলেও, বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে, এই পদক্ষেপ কতটা প্রয়োজনীয় ছিল?
৪ঠা ফেব্রুয়ারি তিনি একদল আইনজীবী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হন। তবে এর মাঝেই সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, SIR-এর বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেছিলেন মুর্শিদাবাদের এক গৃহবধূ, মোস্তারি বানু। তিনি জানান, গত নভেম্বরেই ওই আবেদন জমা পড়েছিল।
মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা এলাকার বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সি মোস্তারি বানু অনলাইনে সেই সাংবাদিক সম্মেলনে যুক্ত হন। তিনি বলেন, সাধারণ ভোটারদের অকারণে তলব করা হচ্ছে, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায়। বহু পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ নোটিস পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁদের জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। ভুল বানান, বয়সের অমিল বা নথির সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে বারবার নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
৯ ই ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত শুনানিতে মোস্তারি বানু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী ওই দিন আদালতে হাজির ছিলেন না বলে জানা যায়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসে।মোস্তারি বানু জানান, তিনি ২০০২ সাল থেকে ভোটার তালিকাভুক্ত। তবু ২০২৫ সালের শেষে তাঁকে শুনানির সমন পাঠানো হয়। তাঁর বয়স ও পারিবারিক নথি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শুধু তিনি নন, জেলার প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ও বি.এড ডিগ্রিধারী মোস্তারি বানু স্বামী কামাল হোসেনের সঙ্গে একটি সাধারণ বাড়িতে থাকেন। তাঁর স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি মনে করেন, এই লড়াই সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য।


