উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে হোলি উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী ‘জুতা মার হোলি’ শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহু শতাব্দী ধরে চলে আসা এই বিশেষ উৎসবকে ঘিরে প্রশাসন এবার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে।
শোভাযাত্রার প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ পথে পড়ে এমন ৪৮টি মসজিদ ও মাজারকে মোটা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। রঙ ছোড়াছুড়ি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে ধর্মীয় স্থাপনাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতেই এই ব্যবস্থা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হল ‘লাট সাহেব’। ব্রিটিশ আমলের পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে মহিষের গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা হাসি-ঠাট্টার ছলে তার দিকে জুতো ও স্যান্ডেল ছুড়ে মারেন, পাশাপাশি চলে রঙের উৎসব। ‘বড়ে লাট সাহেব’ ও ‘ছোটে লাট সাহেব’—দুটি ভাগে এই মিছিল বের হয়। শোভাযাত্রা শুরু হয় ফুলমতি দেবী মন্দিরে প্রার্থনার মাধ্যমে।
জেলার পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদী জানান, গত বছরের তুলনায় দেড় গুণ বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ২০০ জন ম্যাজিস্ট্রেট, চারজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১৩ জন সার্কেল অফিসার, ৩১০ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ১,২০০ কনস্টেবল এবং ৫০০ হোমগার্ড দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের চারটি করে কোম্পানি এবং একটি এনডিআরএফ দল প্রস্তুত থাকবে।
নজরদারির জন্য শোভাযাত্রার পথে ১০০-র বেশি সোলারচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ না থাকলেও পর্যবেক্ষণ চালানো যায়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ১৪৮টি গলি ব্যারিকেড করা হয়েছে। পুরো এলাকা সাতটি জোনে ভাগ করে আলাদা করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। হোলিকা দহন স্থানগুলিতেও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবেন।
গত এক মাস ধরে শান্তি কমিটির বৈঠক হয়েছে। সম্ভাব্য গোলমাল এড়াতে কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
ইতিহাসবিদ ড. বিকাশ খুরানা জানান, অষ্টাদশ শতক থেকে এই প্রথা চালু। নবাব আবদুল্লাহ খানের সময় থেকে হিন্দু-মুসলিম মিলিতভাবে এই উৎসবে অংশ নিতেন। ব্রিটিশ আমলে এটি নতুন রূপ পায় এবং ১৯৮৮ সালে ‘লাট সাহেব’ নামে পরিচিতি পায়। ১৯৯০ সালে নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে আদালত একে প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।


