কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রকের ‘উমিদ’ পোর্টালে দেশের সব ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য তোলার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ ওয়াকফ বোর্ড ট্রাইব্যুনালের কাছে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানায়। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করে আরও ছয় মাস সময় দেয়। এরপর থেকেই রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে।বোর্ডের চেয়ারম্যান বিচারপতি শহীদুল্লাহ মুন্সী এবং সিইও অর্ঘ্য প্রসূন কাজীর তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল নথিভুক্তির কাজ জোরকদমে চলছে। বোর্ড সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সময়সীমা আগামী ২৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত থাকলেও রাজ্য বোর্ড তার আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাকি কাজ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বৃহৎ কাজ সামলাতে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের দফতর এবং পশ্চিমবঙ্গ হজ হাউসে অতিরিক্ত কম্পিউটার বসানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষভাবে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। দিনরাত পরিশ্রম করে কর্মীরা তথ্য সংগ্রহ ও আপলোডের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।সরকারি হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তির সংখ্যা ৮২ হাজার ৬০০। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার সম্পত্তির তথ্য ইতিমধ্যেই পোর্টালে তোলা হয়েছে। একইভাবে ৮ হাজার ৬৩টি ওয়াকফ এস্টেটের মধ্যে ৬ হাজারের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বহু মুতওয়ালি স্বেচ্ছায় প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তবে যারা এখনও যোগাযোগ করেননি, তাদের ক্ষেত্রেও বোর্ড নিজ উদ্যোগে সরকারি রেকর্ড খতিয়ে দেখে তথ্য সংগ্রহ করছে। ফলে কোনো সম্পত্তি বাদ পড়ার আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।বোর্ডের দাবি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ হলে সম্পত্তি পরিচালনায় স্বচ্ছতা বাড়বে। বেআইনি দখল বা অনিয়মের সম্ভাবনাও কমবে। সাধারণ মানুষও সহজে সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন। কলকাতা, বীরভূম, বর্ধমান, নদিয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রচুর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এতদিন নানা জায়গায় নথি সংরক্ষণ ও তদারকির ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিত। এখন কেন্দ্রীয় পোর্টালে সব তথ্য যুক্ত হলে এক জায়গা থেকেই সবকিছু দেখা যাবে। ওয়াকফ বোর্ডের কর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বাকি কাজ শেষ হবে। ডিজিটাল নথিভুক্তির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সম্পত্তি রক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।


