যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার ক্ষমতার এক বছর পূর্ণ হওয়ার মুখে দেশজুড়ে জনমনে অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের ঠিক আগে প্রকাশিত এক যৌথ সমীক্ষা জানাচ্ছে, আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশ বেশ চিন্তিত।এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করছেন বর্তমান প্রশাসনের নীতি দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে না। প্রায় ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, গত এক বছরে দেশের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আগের মেয়াদের একই সময়ের তুলনায় নেতিবাচক মতামত বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কয়েক মাস আগের হিসাবের চেয়েও অসন্তোষের মাত্রা কিছুটা বেশি।তবে জনমত স্পষ্টভাবে দলীয় বিভাজনে আটকে আছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের বড় অংশের দাবি, দেশ আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের অধিকাংশই মনে করেন, পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত। ফলে রাজনৈতিক মতভেদের প্রভাব সমীক্ষার ফলেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া। আগে যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মনে করতেন প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস ও আদালতের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ঠিকভাবে কাজ করছে, এখন সেই বিশ্বাস অনেকটাই নেমে এসেছে। এতে শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এদিকে আলাদা এক জরিপেও দেখা গেছে, ট্রাম্পের নেওয়া সব নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন এমন মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও তার ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে আগের চেয়ে সংশয় বেড়েছে। মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম বলে মনে করেন এমন সমর্থকের হারও কিছুটা কমেছে। একইভাবে নৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে আস্থাও হ্রাস পেয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনমতের এই পরিবর্তন আগামী দিনে প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অর্থনীতি, সামাজিক নীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ স্পর্শকাতর।
Popular Categories


