লখনউয়ের আকবর নগরের উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজন বাসিন্দার ভোটাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, প্রথমে বিষয়টি লখনউয়ের জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে ৯১ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির আবেদন ওঠে। তবে আদালত সরাসরি সেই রিট গ্রহণ করেনি। বিচারপতিরা বলেন, এই মুহূর্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানানোই সঠিক পথ। যদি সেখানে সুরাহা না মেলে, তাহলে আবেদনকারীরা ইলাহাবাদ হাইকোর্টে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, মামলার মূল বক্তব্য সম্পর্কে তারা কোনও মত দিচ্ছেন না।
আবেদনকারীদের দাবি, তারা বহু বছর ধরে আকবর নগরে বসবাস করতেন। ২০২৪-২৫ সালে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়। পরে শহরের বাইরে বসন্ত কুঞ্জ এলাকায় তাদের পুনর্বাসন করা হয়। এই স্থানান্তরের ফলে তাদের ভোটার তালিকায় কেন্দ্র বদলে যায়। তাদের অভিযোগ, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় নির্বাচন দফতর তাদের আগের ভোটার হিসেবে গণ্য করেনি। বরং নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম–৬ জমা দিতে বলা হয়েছে।
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এম আর শামশাদ আদালতে জানান, অনেকের নাম আগের ভোটার তালিকায় ছিল। এমনকি ২০০২ সালের তালিকা এবং সাম্প্রতিক সংশোধিত তালিকাতেও তাদের নাম ছিল বলে দাবি করা হয়। তাই নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন করতে বলা হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। তাদের বক্তব্য, নতুন করে নিবন্ধন করলে পরবর্তীতে নাগরিকত্ব বা ভোটার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনেক সাধারণ মানুষ বিষয়টি পুরোপুরি না বুঝেই বুথ স্তরের কর্মীদের পরামর্শে ফর্ম–৬ জমা দিচ্ছেন। এতে বিভ্রান্তি বাড়ছে। সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট লখনউয়ের জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিককে আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে। আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, সমস্যার সমাধান না হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথ খোলা থাকবে।


