মধ্যপ্রাচ্যে ফের অশান্তির ছায়া। ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর সামনে আসার পরই স্পষ্ট হয়, ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযানের জেরেই এই হামলা। শনিবার ভোরের দিকে তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইরানি সংবাদমাধ্যমে দাবি, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকাগুলির কাছেই আঘাত হানা হয়েছে।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ জানিয়েছেন, এটি ছিল “পূর্বসতর্কতামূলক” পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, ইরানের তরফে সম্ভাব্য হুমকি এড়াতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। পরে আমেরিকাও জানায়, অভিযানে তাদের সামরিক বাহিনী যুক্ত ছিল।
হামলার লক্ষ্যস্থল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দফতরের আশপাশে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে খবর। তবে হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নিরাপত্তার কারণে তাঁকে আগেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
গত বছর জুন মাসেও ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে বারো দিনের বিমানযুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি। তারই মধ্যে নতুন করে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। আমেরিকা ও ইজরায়েল বহু দিন ধরেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। পশ্চিমি দেশগুলির অভিযোগ, তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। যদিও ইরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শক্তি উৎপাদনকেন্দ্রিক।
সম্প্রতি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনার নতুন পর্ব শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ দিনের বিরোধ মেটাতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছিল বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা ছিল। কিন্তু শনিবারের হামলার পর সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইজরায়েল ইতিমধ্যেই তাদের আকাশসীমা অসামরিক উড়ানের জন্য বন্ধ করেছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনও দেশ তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে আবার কি বড় আকারের সংঘাতের পথে হাঁটা শুরু হল? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার রেখা ফের মনে করিয়ে দিল, এই অঞ্চলের শান্তি এখনও কতটা নড়বড়ে।


