মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে নামাজ পড়ার জন্য আলাদা একটি শেড চাওয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিষয়টি পৌঁছয় আদালতে। শুনানির পর বম্বে হাই কোর্ট জানিয়েছে, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কাছাকাছি অন্য কোনও জায়গায় ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
ট্যাক্সি ও অ্যাপ-ভিত্তিক গাড়িচালকদের একটি সংগঠনের দাবি, প্রতিদিন বহু চালক বিমানবন্দরের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কাজের চাপের কারণে দূরে গিয়ে নামাজ পড়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। তাই ছোট একটি নির্দিষ্ট জায়গার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নাকচ করে।
সরকারের বক্তব্য, যে জায়গাটির কথা বলা হয়েছে, সেটি উচ্চ নিরাপত্তা এলাকায় পড়ে। সেখানে নিয়মিত জমায়েত হলে সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি, আশপাশে কয়েকটি মসজিদ রয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।
আদালত বলেছে, ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা—দুই দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন কোনও সমাধান খুঁজতে হবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং কারও ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত না লাগে। রমজান মাসের কথা ভেবে অস্থায়ী ব্যবস্থার কথাও ভাবার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, কর্মব্যস্ত মানুষের প্রার্থনার অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। আবার অন্য পক্ষের মত, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা চলবে না।
আদালত রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বিস্তারিত জবাব দিতে বলেছে। আগামী ৪ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। চালকদের আশা, শিগগিরই এমন একটি পথ বেরোবে, যাতে নিয়মও মানা হয়, আবার প্রার্থনার সুযোগও মেলে।


