জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের পর উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। আশুতোষ পাণ্ডে নামে এক ব্যক্তি অভিযোগকারী হিসেবে সামনে আসেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির নির্দেশ জারি হয়। এরপর তাঁর অনুগামীরা হাইকোর্টে আবেদন জানান। বিচারপতি জিতেন্দ্রকুমার সিং অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন এবং অভিযোগকারীকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই বলেন, ভুয়া অভিযোগের ভিত্তিতে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে হেনস্তা করার চেষ্টা হয়েছিল, আদালত তাতে সায় দেয়নি। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র রাজীব রাইয়ের দাবি, এই মামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলেই আদালত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
আদালতের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই বারাণসীতে শঙ্করাচার্যের আশ্রমে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সেখানে বিশেষ প্রার্থনা ও আনন্দোৎসবের আয়োজন করা হয়।
স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী জ্যোতির্মঠের ছেচল্লিশতম শঙ্করাচার্য। তাঁর আসল নাম উমাশঙ্কর পাণ্ডে। উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। তিনি প্রয়াত শঙ্করাচার্য স্বামী স্বরূপানন্দ সরস্বতীর শিষ্য ছিলেন। গুরু প্রয়াত হওয়ার পর নতুন শঙ্করাচার্য নির্বাচন নিয়ে কিছু মতভেদ তৈরি হয়েছিল বলেও জানা যায়।
এই মামলার পর রাজ্যে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের দিকেই এখন নজর সকলের।


