সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, কুয়েতের আকাশে উড়তে থাকা একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হঠাৎ বিস্ফোরণের পর মাটিতে ভেঙে পড়ে এবং আগুনে জ্বলতে থাকে। অন্তত একজন পাইলটকে প্যারাসুটের সাহায্যে নিরাপদে নিচে নামতে দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো এ ঘটনার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের নাকি ইসরায়েলের, সেটিও নিশ্চিত করা যায়নি।
এই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। গত শনিবার তেহরানের কয়েকটি সরকারি দপ্তর ও ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে। পাল্টা জবাব দিতে ইরান বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে। এই ঘটনার পর তেহরানসহ পুরো অঞ্চলে প্রতিশোধের আগুন আরও জ্বলে উঠেছে। সোমবার সকাল থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বড় শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জেরুজালেম ও তেল আবিবেও সতর্ক সংকেত বাজতে থাকে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে।
গত তিন দিনে দুই পক্ষের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহও এই সংঘাতে জড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক নিহতের তথ্য মিলেছে, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।


