আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লা আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে কাশ্মীর উপত্যকা। শনিবার এই ঘটনার পর থেকেই শ্রীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ শুরু হয়। বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আমেরিকা ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শ্রীনগরে রাষ্ট্রসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক দফতরের সামনে বড় জমায়েত হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল খামেনির ছবি ও নানা প্রতিবাদী পোস্টার।শুধু শ্রীনগর নয়, উপত্যকার অন্যান্য এলাকাতেও প্রতিবাদের খবর মিলেছে। এই পরিস্থিতির জেরে প্রশাসন শহরের ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ঐতিহাসিক ঘন্টা ঘর এলাকা টিনের ঘেরাটোপ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে কাঁটাতারের ব্যারিকেড ও সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক জায়গায় যান চলাচল থমকে যায়। দোকানপাটও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বন্ধ ছিল।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। দাঙ্গা মোকাবিলার সরঞ্জাম নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী টহল দিচ্ছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। সাধারণ মানুষের চলাফেরায়ও কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে অল পার্টিজ হুরিয়াত কনফারেন্স-এর চেয়ারম্যান মিরওয়েজ উমার ফারুক-এর নেতৃত্বে মুতাহিদা মজলিস-ই-উলামা কাশ্মীরজুড়ে বন্ধের ডাক দেয়। বিরোধী দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে।অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাংসদ আগা রুহুল্লাহ মেহেদী ঘণ্টা ঘর এলাকা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তার মতে, এটি মানুষের অনুভূতিকে অসম্মান করা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উমার আব্দুল্লাহ নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উস্কানিতে পা না দিয়ে সবাইকে সংযম বজায় রাখতে হবে। অশান্তি এড়াতে আগামী দু’দিন স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ইরানে এই হামলায় খামেনি ছাড়াও বহু শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার জেরে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কাশ্মীরেও তার প্রভাব স্পষ্ট। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
Popular Categories


