আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ধ্বংসের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বহু মানুষের প্রাণহানির খবর মিলেছে। ভেঙে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার ঘটনায় খামেনেই নিহত হন বলে প্রথমে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ইরান সরকারও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। দীর্ঘ ৩৬ বছর দেশের নেতৃত্বে থাকা এই প্রবীণ নেতাকে তার জন্মস্থান মাশাদে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাশাদ ইরানের অন্যতম পবিত্র শহর। সেখানেই শায়িত রয়েছেন তার বাবা। ফলে পারিবারিক ও ধর্মীয় দিক থেকে এই শহরের সঙ্গে খামেনেইয়ের গভীর সম্পর্ক ছিল।
ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, সমাধিস্থ করার আগে রাজধানী তেহরানে একটি বড় বিদায় সভার আয়োজন করা হবে। তবে কবে দাফন সম্পন্ন হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
মাশাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবস্থিত ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ যান প্রার্থনা করতে। সেই পবিত্র শহরেই শেষ শয্যায় শায়িত হবেন খামেনেই।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসেন তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও ধর্মীয় নীতি সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল টানাপোড়েনের। সাম্প্রতিক সময়ে পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা চললেও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে তিনি সম্মত হননি। এদিকে তার মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। চিন ও রাশিয়া হামলার নিন্দা করেছে। তবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের দাবি, সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতেই তারা আগাম ব্যবস্থা নিয়েছে।


