দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা ঘটে। সেদিন থেকেই দেশে শুরু হয়েছিল আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক আক্রমণ। হামলার প্রথম ধাক্কাতেই স্কুলটি ধ্বংস হয়ে যায় বলে ইরানের প্রশাসনের দাবি।
সরকারি সূত্রের খবর, এই ঘটনায় প্রায় ১৫০ থেকে ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও প্রায় একশো জন। নিহতদের মধ্যে বহু ছোট ছাত্রী রয়েছে। স্কুল চলাকালীন সময়েই বিস্ফোরণ হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে চলতি সংঘর্ষের সবচেয়ে মর্মান্তিক অসামরিক ক্ষতির একটি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পড়ুয়াদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া আছে। সেই জায়গায় হামলা অত্যন্ত গুরুতর লঙ্ঘন। এমন ঘটনা শুধু প্রাণহানি ঘটায় না, শিশুদের শিক্ষার অধিকারকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রাথমিক হামলা ও তার জেরে পরবর্তী প্রতিশোধমূলক আক্রমণ—দুই দিকের ঘটনাকেই নিন্দা করেছে রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন শাখা।
শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি অবিলম্বে হিংসা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি তুলেছেন। মালালা মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপদ পরিবেশে বেঁচে থাকা ও পড়াশোনা করার অধিকার রয়েছে।


