উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের জানকিপুরম এলাকায় একটি আখের রসের ছোট দোকানে আগুন লাগানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দোকানটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে,দোকানের মালিকের নাম মুন্না, যিনি বাহরাইচ জেলার বাসিন্দা। প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় আখের রসের দোকান চালাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, এতদিন তার দোকানকে কেন্দ্র করে কোনও সমস্যা বা অভিযোগের কথা শোনা যায়নি। ঘটনার সময় মুন্না ও তার পরিবার বাহরাইচে আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়েছিলেন, ফলে দোকানটি ফাঁকাই ছিল।
শুক্রবার একটি ছোট ভিডিও হঠাৎ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, মুন্নার মানসিকভাবে অসুস্থ ছোট ছেলে, যার বয়স আনুমানিক সাত থেকে দশ বছর, আখের রসের মেশিনের পাশে রাখা বরফের টুকরো মুখে দিচ্ছে। ভিডিওটি যিনি তুলছিলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে কটূক্তিও করেন। তবে সেই সময় ছেলেটির বাবা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, এরপর কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাতে দোকানটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে পুরো দোকানটি পুড়ে যায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এলাকার বাসিন্দা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। তাদের বক্তব্য, একটি শিশুর আচরণকে কেন্দ্র করে এমনভাবে একটি পরিবারের জীবিকা নষ্ট করা অন্যায়। অনেকেই জানিয়েছেন, ছেলেটির বিশেষ যত্নের প্রয়োজন, তাকে নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো বা পরিবারের ক্ষতি করা উচিত নয়।
খবর পেয়ে জানকিপুরম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগুন লাগানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার পর মুন্নার পরিবার গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও সমাজকর্মীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।


